বাংলাদেশের লোকসংগীতাঙ্গনে বিচ্ছেদ গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন জুলেখা সরকার। আবেগঘন কণ্ঠ, মাটির গন্ধমাখা সুর এবং জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহের বাস্তব চিত্র গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতায় তিনি শ্রোতাদের হৃদয়ে আলাদা স্থান করে নিয়েছেন।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল ও বিচ্ছেদ ধারার গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এই শিল্পী। তার পরিবেশনায় প্রেম, বিরহ, হতাশা এবং মানবিক অনুভূতির নানা দিক উঠে আসে, যা সহজেই শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে।
সংগীতজীবনে জুলেখা সরকারের কণ্ঠে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি গান দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— *“প্রেম করিয়া মন ভাঙ্গিলে জোড়া লাগেনা”*, *“বুকেতে হাত রেখে বল বলোনা”*, *“পাথরে লেখা নাম হয়তো মুছে যেতে পারে”*, *“যদি আরেক জনম আমি পাইগো”* এবং *“কেন কেন হলো দেখা রে তোমারে দেখলাম”*। গানগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি তার কণ্ঠে প্রকাশিত *“Tui Amar Duti Cokher Tara Re”*, *“Dukkho Diyo Kosto Diyo Chaira Jeyo Na”* এবং *“Dustu Kalacan”* গানগুলোও শ্রোতাদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
বিশেষ করে বিচ্ছেদ ঘরানার গানে আবেগঘন পরিবেশনার কারণে সংগীতাঙ্গনে তিনি **‘বিচ্ছেদ রানী’** নামে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার গায়কীর সহজ-সরল উপস্থাপনা গ্রামবাংলার মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
সংগীতবোদ্ধাদের মতে, আধুনিকতার প্রবল স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা বাংলা লোকসংগীতকে টিকিয়ে রাখতে জুলেখা সরকারের মতো শিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, এ ধরনের শিল্পীরা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও লোকসংগীতের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
জুলেখা সরকার বলেন, “আমি মানুষের মনের কথা গানের মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। আমার গান যদি একজন মানুষের হৃদয়ও ছুঁতে পারে, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
বর্তমানে নতুন নতুন গান প্রকাশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্টেজ শো ও লোকসংগীতের অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এই শিল্পী। ভবিষ্যতেও বাংলা লোকসংগীতকে আরও সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মোঃ মাসুদ সরদার, বরিশাল জেলা প্রতিনিধি :