প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

বর্ষার সৌন্দর্যে মুখর শাহজাদপুরের রেশমবাড়ি, বাড়ছে পর্যটকের ভিড়

আলামিন হক বিজয়, রাজশাহী ব্যুরো :

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ি বর্ষা মৌসুমে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সরু একটি সড়ক বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে, আর তার দুই পাশে যতদূর চোখ যায় থইথই পানি। দিগন্তজোড়া এই জলরাশি প্রকৃতির এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে, যা প্রতিদিনই টানছে অসংখ্য দর্শনার্থীকে।

 

বিকেল গড়াতেই রেশমবাড়িতে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই এখানে সময় কাটাতে আসেন। কেউ কেউ পানিতে নেমে গোসল করেও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

 

সিরাজগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে শাহজাদপুর উপজেলা ভাটির অঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। রেশমবাড়িও তেমনই একটি স্থান। যে জলাভূমি এখন পানিতে ভরা, বর্ষা শুরুর আগে শুষ্ক মৌসুমে সেটিই ছিল আবাদি জমি। বর্ষার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে বিশাল জলাভূমিতে পরিণত হয়, যা চলনবিলেরই একটি অংশ।

 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বর্ষা মৌসুমে রেশমবাড়ি এখন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন কেন্দ্রের স্বীকৃতি না পেলেও সৌন্দর্যের টানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ছুটে আসছেন।

 

রেশমবাড়ি ঘুরতে আসা দুই ভাই জাহাঙ্গীর মোল্লা ও ফারহান খাঁন ফাহিম বলেন, এখানে এসে তাদের অনেক ভালো লেগেছে। তারা দেখেছেন, দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু মানুষ রেশমবাড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন। তবে তারা জানান, এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীরা আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারবেন।

 

আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন স্পট হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় এখনও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পানিতে গোসলের সুযোগ থাকলেও নেই কোনো হোটেল বা পোশাক পরিবর্তনের নির্দিষ্ট স্থান। প্রয়োজন হলে দর্শনার্থীদের স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়।

 

এ ছাড়া খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কেউ টয়লেট ব্যবহার করতে চাইলে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের বাজারে যেতে হয়, যা দর্শনার্থীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি ‘রেশমবাড়ির বিল’ নামে পরিচিত। আবার অনেকেই মনে করছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ভবিষ্যতে এটি ‘মিনি কক্সবাজার’ বা ‘রেশমবাড়ি বিচ’ নামেও পরিচিতি পেতে পারে।

 

সঠিক পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে রেশমবাড়ি একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন