হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমলা ছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া ও নদী থেকে ইজারা ছাড়াই সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সিলিকা বালু উত্তোলন করছে। এতে একদিকে পরিবেশ ও নদী-ছড়ার তীরবর্তী এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
অভিযোগ রয়েছে, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি কোয়ারির ইজারা ছাড়াই ড্রেজার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিমলা ছড়া, শাহপুর ছড়া ও সোনাই নদীসহ কয়েকটি নদী ও ছড়া থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তীরভাঙনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা এবং স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সভাপতি আলফাজ মহালদার, উপজেলা বিএনপির নেতা হাজী ফিরোজ, মাসুদ মোল্লা, কবির আলম, হেলাল মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, প্রভাবশালী হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা মাসুদ মোল্লা মোবাইল ফোনে বলেন, “আমাদের সোনাই নদীর সিলিকা বালুর বৈধ ইজারা রয়েছে। আমরা বোয়ালি বা শিমলা ছড়া থেকে কোনো বালু উত্তোলন করি না।”
অন্যদিকে সরেজমিনে গিয়ে শিমলা ছড়া থেকে ৮ থেকে ১০টি বালুবাহী নৌকায় বালু পরিবহনের দৃশ্য দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি নৌকা থেকে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে চাঁদাও আদায় করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা আরও জানান, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান, নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের মতো বালু উত্তোলন শুরু হয়। প্রকাশ্যে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তৎপরতা চোখে পড়ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ অবস্থায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, নদী, ছড়া ও পরিবেশ রক্ষায় ইজারাবিহীন বালু উত্তোলন দ্রুত বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, কারা সহযোগিতা করছে এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :